প্রগতি বার্তা

‘তেল পাচ্ছি না আর বিদ্যুৎ তো থাকেই না, পানি না পাওয়ায় ধান মরে যাচ্ছে’

প্রগতি ডেস্ক
প্রগতি ডেস্ক প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১:০০
‘তেল পাচ্ছি না আর বিদ্যুৎ তো থাকেই না, পানি না পাওয়ায় ধান মরে যাচ্ছে’


চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। ভরা মৌসুমে সবুজে ছেয়ে যাওয়া ফসল যখন ঘরে তোলার স্বপ্ন বুনছেন, ঠিক তখনই ডিজেল সংকট আর অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ধূসর হওয়ার পথে কৃষকের সেই স্বপ্ন। জেলাজুড়ে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে সেচ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে চাষিদের মধ্যে এখন চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।


এ ছাড়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সঙ্গে তার ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলএলপি পাম্পগুলো বন্ধ থাকছে। ফলে অনেক কৃষকই সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, যা ফলন বিপর্যয়ের স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে।


বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে যারা ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করছেন, তাদের ভোগান্তি আরও চরমে। সম্প্রতি ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি, পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ কৃষকরা। প্রান্তিক কৃষকদের মতে, সার ও বীজের দাম এমনিতেই চড়া, তার ওপর ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ খরচ এভাবে বেড়ে গেলে লোকসান ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।


তাই স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বোরো ধানের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলাজুড়ে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে ৪৭৭৬৫ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া, জেলায় মোট ২ হাজার ৩৯৪টি এলএলপি (Large Volume Water Pumps) পাম্প আছে। তার মধ্যে বিদ্যুৎচালিত ৫৫৮টি এবং ডিজেলচালিত ১৮৩৬টি।


নাচোল উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রয়েল বলেন, মাঠে বোরো ধান আবাদ করছি। কিন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। পাম্পে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছি তেল পাচ্ছি না। এই তেলটা পাইলে আমরা জমিতে সেচ দিতে পারবো। কিন্ত সময় মতো তেল পাচ্ছি না আর বিদ্যুৎ তো থাকেই না। তাই জমিতে ধান মরে যাচ্ছে পানি না পাওয়ার কারণে।


আরেক কৃষক মাসুদ হাসান বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে সেচের সমস্যা। আমাদের তেলের ও বিদ্যুতের সমস্যা মিটিয়ে দিতে হবে। তেল ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত সেচ না দিতে পেরে ধান মারা যাচ্ছে। পুকুরের পানি দিয়ে সেচ দেবো কিন্তু তেল পাচ্ছি না। ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। তাহলে আমরা করবো কী? 


হাবিবুর রহমান নামের আরেক কৃষক বলেন, সেচের পানির ওপর ৮০ শতাংশ বোরো চাষ নির্ভরশীল। সময়মতো সেচ দেওয়া না গেলে মাঝপথে ধানের চারা মরে যেতে পারে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আব্দুল হালিম, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের জ্বালানি নেওয়ার জন্য কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা পাম্প থেকে জ্বালানি পাচ্ছেন। বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি নিতে লাইন ধরতে হচ্ছে এবং পাম্পে অনেকক্ষণ সময় দিতে হচ্ছে তা মানিয়ে নিয়েই চলতে হবে। এ ছাড়া, লোডশেডিংও বাড়ছে। এতে সেচ কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও বোরো ধানের আবাদে প্রভাব ফেলবে না।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকেই গরম বেড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে বোরো চাষের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে ১৫ থেকে ২৫ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাচ্ছি। তাই স্থান ও সময় ভেদে বিভিন্ন সময় লোডশেডিং হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত সংবাদ